নিজস্ব প্রতিবেদক;

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল টোলপ্লাজার সামনে থেকে আত্মসাৎ হওয়া ১২ হাজার ২৩৯ কেজি (প্রায় ১২ টন) সাইজিং লাইনার পেপার এবং একটি কাভার্ডভ্যান মাত্র ৩৬ ঘণ্টার বিশেষ অভিযানে উদ্ধার করেছে কর্ণফুলী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা ও চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের মহিউদ্দিন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর ইছানগর এলাকার মাসুদ পোর্ট কোম্পানিতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাজাপুরি ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৫৩৬৩ নম্বরের একটি কাভার্ডভ্যানে ১২ হাজার ২৩৯ কেজি (২১ রোল) সাইজিং লাইনার পেপার পাঠানো হয়।

গত ৬ জুলাই রাতে কাভার্ডভ্যানটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয়। তবে ৯ জুলাই দুপুরে কর্ণফুলী টানেলের টোলপ্লাজার সামনে পৌঁছানোর পর চালক ও সংশ্লিষ্টরা মোবাইল ফোন বন্ধ করে মালামাল আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যায়।

এ ঘটনায় ১২ জুলাই কর্ণফুলী থানায় পেনাল কোডের ৪০৭/৪২০/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ারউদ্দিন।

মামলার তদন্তে এসআই মো. শফি উল্লাহ, এসআই মো. আশিক হায়দার বাকী, এএসআই আলীমুল জাহিদ মুন্সি ও এএসআই মো. শাকিল আহাম্মেদের নেতৃত্বে একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে বন্দর থানার নিমতলা বিশ্বরোড এলাকা থেকে কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করে।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার মতিঝিল থানার দক্ষিণ কমলাপুর এলাকা থেকে গাড়ির হেলপার নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কর্ণফুলীর মইজ্জারটেক এলাকা থেকে মহিউদ্দিন ও ইসমাইল ওরফে মুসলমানকে আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বায়েজিদ বোস্তামী থানার শেরশাহ বাংলাবাজার এলাকার একটি প্যাকেজিং কারখানায় অভিযান চালিয়ে আত্মসাৎ হওয়া ২১ রোল সাইজিং লাইনার পেপার উদ্ধার করা হয়। এ সময় জানে আলম, কামাল হোসেন ও রফিক উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আত্মসাৎ হওয়া ১২ হাজার ২৩৯ কেজি (২১ রোল) সাইজিং লাইনার পেপার এবং ঢাকা মেট্রো-ট-১১-৫৩৬৩ নম্বরের কাভার্ডভ্যানটি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ছয় আসামির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ারউদ্দিন।